মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সাধারণ তথ্য

১.জলজ সম্পদের বিবরনঃ

#

জলাশয়

সংখ্যা

আয়তন (হেঃ)

পুকুর-দীঘি (চাষকৃত)

২২১২৫

১২২০.০০

পুকুর-দীঘি (পতিত)

১৯৭

১৩.২৭

বরোপিট

২৫

৫২.০০

নদী

০৭

২৯৫৬.০০

খাল

৮২

৫৪২.০০

 

২. চলমান মৎস্য চাষ প্রযুক্তির বিবরণঃ

#

প্রযুক্তি সমূহ

চাষীর সংখ্যা

আয়তন (হেঃ)

বার্ষিক উৎপাদন মে.টন.)

 

রুই জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ

২১১০৭

১১২৫.০০

২৫০০.০০

 

রুই জাতীয় মাছ ও চিংড়ির মিশ্র চাষ

৪৫৮

৫৬.০০

৯৬.০০

 

পাঙ্গাস মাছের একক চাষ

৯৭

১৩.৪৩

৯৯.৫০

 

মনোসেক্স তেলাপিয়ার একক চাষ

১৬০

১৭.৪০

১০৭.৫০

 

খাঁচায় মাছ চাষ

৬৮

(৬৮ টি খাঁচা)

আহরণ করা হয় নাই

 

পোনা প্রতিপালন

৭২

১০৩.০০

২৫৪.০০

 

গলদার একক চাষ

৫০

১৪.০০

৭.০০

 

বাগদার একক চাষ

৩৫

৫৭.০০

২১.০০

 

হ্যাচারীর সংখ্যা

০২ টি (বন্ধ)

-

-

 

৩। মৎস্য উৎপাদনঃ

৩.১। উন্মুক্ত জলাশয় হতে আহরনকৃত মাছের উৎপাদন ঃ ৫৫৩৬.৩৫ মে.টন

       এর মধ্যে বাৎসরিক ইলিশ উৎপাদনঃ ১২৭০ মে.টন

৩.২। চাষকৃত মাছের উৎপাদন            ঃ  ৩০৮৫.০০ মে. টন

       মোট মাছের উৎপাদন              ঃ ৮৬২১.৩৫ মে. টন

        মোট মাছের চাহিদা                ঃ ৫১৩৭.১০ মে. টন

        মোট উদ্বৃত্ত মাছের পরিমান        ঃ ৩৪৮৪.৩৫ মে. টন 

 

 

৪। মৎস্যজীবীদের তথ্যাদিঃ

 ৪.১। মোট মৎস্যজীবীর সংখ্যা                               ঃ ১৬৯১১ জন

          ক) নিয়মিত জেলে                                  ঃ ৪১৩৩ জন

          খ) খন্ডকালীন জেলে                                ঃ ৪৩০০ জন

          গ) সাব সিসট্যান্ট জেলে                            ঃ ৮৪৭৮ জন

             ইলিশ আহরনকারী জেলের সংখ্যা               ঃ ৬২৪০ জন

             যান্ত্রিক ট্রলার সংখ্যা                              ঃ ১১৭০ টি

 

৫। জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তা প্রদানঃ

বরগুনা জেলা ‘‘ইলিশ জোন’’ হিসেবে প্রকল্পভুক্ত না হওয়ায় জেলেরা বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের কোন সুবিধা পায় না। অত্র আমতলী উপজেলায় মোট ১৬৯১১ জন জেলের মধ্যে কেবলমাত্র ২৮৯০ জন ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকে।

৫.১। দারিদ্র বিমোচন প্রকল্পে মৎস্য চাষে ঋণ প্রাপ্ত চাষীর সংখ্যা           ঃ ৫৪ জন

৫.২। মৎস্য চাষে ক্ষুদ্র ঋণ প্রাপ্ত চাষীর সংখ্যা                                 ঃ ৯ জন

 

৬। মৎস্য সংশ্লিষ্ট চলমান প্রকল্পসমূহঃ

         - মেরিন ফিসারীজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং

         - ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রজেক্ট (আইএপিপি)

         - ভিজিএফ কর্মসূচীর মাধ্যমে জেলেদের পুনর্বাসন

         - বন্যা নিয়ন্ত্রন ও সেচ প্রকল্প (এফসিডিআই)

         - অরএফএলডিসি- বরিশাল (অর্থায়নে ডানিডা)

         - ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিকভারী এন্ড রিএসটোরেশন প্রজেক্ট  (ইসিআরআরপি )

         - ফিড দি ফিউচার (ওয়ার্ল্ড ফিস)

          - নব জীবন (সেইভ দ্যা চিলড্রেন)

         - এসপিজিআর (বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা কাউন্সিল)

 

 

 

 

 

 

৭।সিডর ও আইলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবি ও মৎস্যচাষীদের গ্রামসমূহ ঃ            

#

ইউনিয়ন

গ্রামসমূহের নাম

গুলিশাখালী

১। নাইয়াপাড়া ২। গুলিশাখালী ৩। আঙ্গুলকাটা ৪। ডালাচারা ৫। খেকুয়ানী

চাওড়া

১। গিলাতলী ২। বৈঠাকাটা ৩। ঘটখালী ৪। পাতাকাটা

আমতলী পৌরসভা

১। সবুজবাগ ২। বাসুকী ৩। নয়াভাঙ্গুলী ৪। লোছা

হলদিয়া

১। রাওঘা ২। উত্তর তক্তাবুনিয়া ৩। হলদিয়া ৪। ছোনাউঠা

আমতলী

১। দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী ২। চলাভাঙ্গা ৩। পূজাখোলা ৪। উত্তর টিয়াখালী ৫। সেকান্দারখালী

আড়পাঙ্গাশিয়া

১। যুগিয়া ২। পমরবুনিয়া ৩। বালিয়াতলী ৪। চরকগাছিয়া ৫। তারিকাটা

পচাঁকোড়ালিয়া

১।পচাঁকোড়ালিয়া ২। মনসাতলী ৩। জয়ালভাংগা

ছোটবগী

১। ছোটবগী ২। মৌপাড়া ৩। গাববাড়িয়া ৪। চরপাড়া

কড়ইবাড়িয়া

১। হেলেঞ্চাবাড়িয়া ২। বেহেলা ৩। হরিণবাড়িয়া

১০

শারিকখালী/কচুপাত্রা

১। কচুপাত্রা  ২। শারিকখালী ৩। চাউলা ৪। নিউপাড়া

১১

বড়বগী

১। নলবুনিয়া ২। শিকারীপাড়া ৩। মোয়াপাড়া ৪। তালুকদারপাড়া

১২

নিশানবাড়িয়া

১। অংকুজান পাড়া ২। জয়ালভাংগা ৩। তেতুলবাড়িয়া

১৩

সোনাকাটা

১। ভেদুপাড়া ২। ফকিরের হাট ৩। নিদ্রাসখিনা

 

৮। মৎস্য উৎপাদনের সম্ভাবনাসমূহঃ

ইতোপূর্বে উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাচুর্যতার কারণে এই উপজেলায় মাছ চাষ কাঙ্খিত মাত্রায় সম্প্রসারণ হয় নি। তবে সম্প্রতি মৎস্য দপ্তরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই এলাকায় মনোসেক্স তেলাপিয়া ও থাই পাঙ্গাশ প্রজাতির চাষ আরম্ভ হয়েছে যা উল্লেখযোগ্য হারে চাষীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। এতদ্ব্যতীত মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সম্ভাবনা রয়েছে-

·        সমাজভিত্তিক মাছ চাষ ব্যবস্থপনা মডেল এর আওতায় পতিত খাল ও ছোট নদীতে খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া এবং পেনে (খালে পাটা/গড়া স্থাপন করে) থাই পাঙ্গাশ  প্রজাতির চাষ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।

·        নীচু ফসলী জমিতে সমাজভিত্তিক মাছ চাষ ব্যবস্থপনা মডেল এর আওতায় ধান ক্ষেতে মাছ চাষ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।

·        ঘেরে গলদা চিংড়ির একক চাষ ও কার্প-গলদার মিশ্র চাষ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।

·        খাস জলাশয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবি সমিতি কর্তৃক সমাজভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।

·        গুণগতমানসম্পন্ন মনোসেক্স তেলাপিয়া ও থাই পাঙ্গাশ প্রজাতির পোনা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নার্সারীতে পোনা পালন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।

·        অত্র এলাকার মৎস্যজীবি কর্তৃক প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ এবং নির্ধারিত সময়ে জাটকা নিধন রোধে সর্বাত্নক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি করা।

 

 

 

 

৯। মৎস্য উৎপাদনে সমস্যাসমূহঃ

সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় এই উপজেলার মৎস্যচাষী ও জেলেরা প্রতিনিয়ত সিডর ও আইলসিহ নানাধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশপাশি মৎস্যজীবি ও চাষীরা বিভিন্ন সমস্যার দ্বারা ক্ষতির স্বীকার হয়। মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্র উপজেলায় সমস্যাসমূহ-

·        অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করতে জেলেদের অনীহা।

·        মোহনা অঞ্চলে (তালতলী) বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ব্যবহার করায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উজানে পরিবভ্রমণ ও প্রজনন ব্যাহত হওয়া।

·        নদীর পার্শ্ববর্তী খালসমূহ ভরাট হয়ে যাওয়া।

·        জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে অপর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব।

·        ইলিশের প্রধান মৌসুম (১১ দিন : ২৫ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর) এ জেলেদের কোন প্রকার খাদ্য সহায়তা প্রদান না করা।

·        উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ব্যবহারের জন্য কোন ট্রলার না থাকায় মৎস্য আইন বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়া।

·        জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান হিসাবে খাস জলাশয়সমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতি কে ইজারা প্রদানে  ব্যর্থ হওয়া।

·        ফিস ল্যান্ডিং সেন্টার না থাকায় সামুদ্রিক ও উন্মুক্ত জলাশয় হতে বিপুল পরিমাণ আহরণকৃত মাছসমূহ বিপননের ক্ষেত্রে জেলেদের দূরবর্তী স্থানে (পাথরঘাটা) মাছ বাজারজাত করা।

·        আমতলী ও তালতলী ‘‘ইলিশ জোন’’ হিসেবে প্রকল্পভুক্ত না থাকা।

·        সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যজীবি ও মৎস্যচাষীদের সরকারী সাহায্য প্রদান না করা।

·        এনজিও সমূহের মৎস্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে একই মডেলের পুনরাবৃত্তি এবং সুফলভোগী নির্বাচনে ওভারলেপিং সমস্যা রোধে সরকারী দপ্তর সমূহের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব।

 

 

 

 

১০। সুপারিশ সমূহঃ

 

·        উপর্যুক্ত সম্ভানাময় মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সস্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্পক গ্রহণ।

·        মৎস্য আইন বাস্তবায়নে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার সহ প্রয়োজনীয় লজিষ্টিক্স প্রদান এবং মৎস্য আইন

     বাস্তবায়নকালিন অধিকসংখ্যক জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ।

·        প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান।

·        আমতলী ও তালতলী উপজেলাকে ‘‘ইলিশ জোন’’ হিসেবে প্রকল্পভুক্ত করণ এবং তালতলী উপজেলায় একটি ফিস ল্যান্ডিং সেন্টার স্থাপন।

·        তালতলী উপজেলার ফকিরের হাট এলাকায় সমুদ্রে মাছ আহরণকারী জেলেদের সুবিধার্থে সিগন্যাল লাইট টাওয়ার স্থাপন।


Share with :

Facebook Twitter